মাথাপিছু আয় প্রাসঙ্গিক ভাবনা

অনেকেই মাথা পিছু আয় বেড়েছে বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেন আমরা এখন অনেক উন্নত হয়ে গেছি,
মাথা পিছু আয় মানে ই কি মানুষের উন্নতি হয়েছে?
কোন শ্রেণীর মানুষের উন্নয়ন? আমলা ও সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাবসায়ি ও বিশেষত ঢাকার বাড়িওয়ালা, রাজনীতি বিদ !!! এখন একশ্রেণীর মানুষ গরিব হচ্ছে আর আরেক শ্রেণী টাকার পাহাড় গড়ছেন!!

বাংলাদেশ এখন মাথা পিছু আয় ১৭৫২ ডলার * মানে ১৪৭১৬৮ টাকা প্রায়, শুনতে তো ভালো লাগে, আচ্ছা আমার আয় কত? আপনার নিজের আয় কত? বা আপনার আশেপাশের ফুটপাতের দোকান দার, কামলা, শ্রমিক, বেকার যারা আছেন তাদের আয় কত?

#পাথাপিছু আয় কি এবং কিভাবে এই মাথাপিছু আয় নির্ধারিত হয়,

#মাথাপিছু আয় বলতে কোন দেশের মোট আয়কে জনপ্রতি ভাগ করে দিলে যা হয়, তাকে বোঝায়| জনগনের সর্বমোট ব্যক্তিগত আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়|

ধরি , যদি কোন দেশের জনসংখ্যা ১০০ জন, তাদের প্রথম ৩ জনের আয় ২৮ টাকা আর বাকি ৯৭ জনের আয় ৭২ টাকা,  তবে এখানে তাদের মাথাপিছু আয় কত? হিসাব মতে মাথা পিছু ১ টাকা, বাস্তবে ৯৭ জনের আয় পড়লো কত করে? আর সেই ৩ জনের পড়লো কত করে? এটা একটা উপমা

দেশের বেশিরভাগ মানুষ যদি কৃষক হয়ে থাকে, তবে পত্রিকা সূত্রে তারা সারা বছর আলু উৎপাদন করে তা বিক্রি করে ১ টাকা বা ১.৫০টাকা করে – যা আমরা কিনি ২০-২৫ টাকায়, সারাবছর বেগুন উৎপাদন করে এক মন বেগুনের বিনিময়ে পায় এক কেজি চাল, আর আমরা বেগুন কিনি ৪০ টাকা করে কেজি, আর ব্যাবসায়ীরা একমন বেগুন বিক্রি করে পায় ১৬০০ টাকা আর কৃষক সারা বছর পরিশ্রম করে পেলো কত? আর কৃষক চাল বিক্রি করেনা, বিক্রি করে ধান ২২টাকা কেজিতে  আর রাইসমিল ব্যাবসায়িরা চাল বিক্রি করে ৫৭ টাকা থেকে ৭০ টাকা, বাজারে সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট করে জিনিসের দাম ব্যাবসায়িদের মর্জিমাফিক দামে বিক্রি হয়, সম্প্রতি আমাদেরকে পেয়াজ কিনতে হয়েছিল ১৪০ টাকা করে, এই টাকা যাচ্ছে ব্যাবসায়ীদের পকেটে আর দেওলিয়া হচ্ছে কৃষক, এখানে কৃষকের মাথা পিছু আয় আর ব্যাবসায়িদের মাথাপিছু আয় কিভাবে নির্ধারিত হবে?

২২ লাখ সরকারি চাকরিজিবীদের সর্বনিম্ন বেতন ১৬০০০ টাকা, তার উপর উপরি, চিকিৎসা ফ্রি, বাড়ি ফ্রি, চাকরি হারানোর চিন্তা নেই, বছরে ১৬৫দিনের অধিক বিভিন্ন ছুটি, বোনাস, ভাতা, চাকরি শেষে কোটি টাকা পেনশন, মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদের পেনশন, সরকারের চাকুরীজিবীদের বেতন অনুপাতে দ্রব্য মূল্য,বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের, পানির বিল নির্ধারিত হয়, দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি হলে সরকারি চাকরিজিবী মাত্র ২২ লাখ,

পোশাক কারখানায় কাজ করে সরাসরি ৪৪ লাখ, আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই পোশাক কারখানার সাথে জড়িত, সবমিলিয়ে, প্রায় এক কোটি লোক এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, পোশাক কারখানায় যারা কাজ করে তাদের সর্বনিম্ন বেতন ৫০০০ টাকা, তার জন্যে অনেকেই কাজ করতে হয় দিনে ১২-১৪ঘন্টা, সপ্তাহে ৭দিন, মাসে ৩০দিন, অসুস্থ হলে চাকরি থেকে বিদায়, মাসের বেতন মাসে পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নেই, জিনিস পত্রর দাম বাড়লে নিজেরা না খেয়ে কোন প্রকারে সন্তানের মূখে আহার জোগায়, এদের মাথা পিছু আয় কিভাবে নির্ধারিত হয়?

এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক প্রতিবেদনে বলেন, শুধুমাত্র চালের দাম বৃদ্ধির ফলে নতুন করে আরও ৫ লাখ ২০ হাজার লোক দরিদ্র হয়েছে, শত শত মানুষ ষ্টেশন আর ফুটপাতে থাকে, সম্প্রতি মিরপুর বস্তিতে আগুনে গৃহহীন হয় ২৫০০০ মানুষ, আরও এমন অনেক ভাসমান মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন**
সম্প্রতি এক সংবাদে বলা হয় দেশে বর্তমানে ২৮ লাখ বেকার!! এদের মাথাপিছু আয় কিভাবে নির্ধারিত হয়?

এখন গরিব আরও গরিব হয়ে যাচ্ছে আর কোটি পতিরা আরও কোটি পতি হচ্ছেন

Leave a comment